ভূয়া র‌্যাব চক্রের প্রধানসহ ৩ সদস গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার (আলোকিত শীতলক্ষ্যা.কম) : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে সংঘবদ্ধ ভূয়া র‌্যাব চক্রের প্রধানসহ ৩ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

রবিবার (২৫ আগষ্ট) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগরে অবস্থিত র‌্যাব-১১’র সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে: কর্ণেল কাজী শমসের উদ্দিন উপস্থিত গনমাধ্যমকর্মীদেরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এসময় তাদের কাছ থেকে র‌্যাবের ইউনিফরম পরিহিত ২টি ছবি (এডিটিং করা), বাংলাদেশ র‌্যাব লেখা ও র‌্যাবের মনোগ্রাম সম্বলিত ১টি জ্যাকেট, র‌্যাব সদর দপ্তরের সীল ও অফিসারদের ভুয়া স্বাক্ষর সম্বলিত ৭টি নোটিশ, র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা অফিসার, ডিউটি অফিসার ও তদন্তকারী অফিসার নামীয় ৪টি সীল, বিজিবি’র ১টি আইডি কার্ড, ১সেট বিজিবি ইউনিফরম, ১টি ল্যাপটপ, ১টি প্রিন্টার, ১টি মোবাইল ও ১৪টি সীম জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, কুড়িগ্রাম জেলার উকিলপুর থানার মাসতীবাড়ী দীঘর এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে জয়নাল আবেদীন (২৭), গাজীপুর জেলার সদর থানার জান্দালিয়া পাড়া এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হোসেন (২৭) ও কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার চরজাকারিয়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (২৯)।

সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে: কর্ণেল কাজী শমসের উদ্দিন জানায়, গত শনিবার (২৪ আগষ্ট) দিবাগত রাতে র‌্যাব-১১’র সিপিএসসির বিশেষ অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জের রূপসী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, উক্ত ভূয়া র‌্যাব প্রতারক চক্রের দ্বারা প্রতারিত ভুক্তভোগী একজনের নিকট থেকে প্রাপ্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-১১। এতে দেখা যায় যে, প্রতারক চক্রটি র‌্যাব সদর দপ্তরের বিভিন্ন পদের সীলমোহর ব্যবহার করে নিজেদের তৈরীকৃত ১টি ভুয়া নোটিশ প্রেরণ করে। নোটিশনামায় প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করলে উৎকোচ প্রদানপূর্বক উক্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি মিলবে এমন আশ্বাস দেয়। অন্যথায় গ্রেফতার করার ভয় দেখানো হয়।

এ প্রেক্ষিতে শনিবার দিবাগত রাতে উৎকোচ গ্রহণ করার সময় উৎপেতে থাকা র‌্যাব সদস্যরা তাদেরকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় তাদের সকলের বর্তমান ঠিকানা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর এলাকায়।

উল্লেখিত প্রতারক চক্রের প্রধান জয়নাল আবেদীন ইতিপূর্বে বিজিবিতে চাকুরী করত। বিজিবিতে চাকুরী অবস্থায় সে ২০১৭ সালে বিজিবি থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তার নেতৃত্বে একটি প্রতারক চক্র সংঘঠিত হয়। সে দীর্ঘদিন ধরে বিজিবিতে চাকুরী দেয়ার নাম করে অনেক লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের সাথে প্রতারনা করে আসছে। তারই নেতৃত্বে উক্ত প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আর্থিকভাবে সম্পদশালী লোকদেরকে র‌্যাবের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার নামে ও মিথ্যা মামলার ভয়-ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় বলে জানা যায়।

উক্ত প্রতারক চক্র র‌্যাব সদর দপ্তরের বিভিন্ন পদবীর নামীয় সীল তৈরী করত: তাদের প্রস্তুত করা বিভিন্ন ভুয়া নোটিশে নিজেরাই স্বাক্ষর করে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছিল। এক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য ভুয়া নোটিশগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পৌছানো হত।

সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করার জন্য বিজিবি’র ইউনিফরম পরিহিত ছবি ও র‌্যাব সদস্যের ছবি এডিটিং করে র‌্যাবের ইউনিফরম পরিহিত ভুয়া ছবি তৈরী করে তারা প্রদর্শন করত। তারা মানুষের শ্রেণী বুঝে কখনো র‌্যাবের এসআই এবং কখনো ওয়ারেন্ট অফিসার পরিচয় দিয়ে আসছিলো। এভাবে তারা র‌্যাবের পরিচয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিদেরকে ব্যবহার করে সাধারন মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তাদের সাথে প্রতারনা করে আসছিলো।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও র‌্যাব জানায়।

Social Share
29Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *