প্রতিদিন মাইলের পর মাইল পায়ে হেটে প্রাইমারী স্কুলে যেতাম : এসপি হারুন অর রশীদ

স্টাফ রিপোর্টার (আলোকিত শীতলক্ষ্যা.কম) : নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ তাঁর ছাত্রজীবনে, শিক্ষক-ছাত্রের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘হাওর অঞ্চল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া খুবই কঠিন ছিল।

আমার শিক্ষক গর্ব করে বলত আমার ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে। আমরা যতটা না বলতাম তার চেয়ে শতগুণ বেশি বলত। গর্ব করে বলত এটা আমার ছাত্র। কিন্তু সেই ছাত্ররা জীবনে সফলতার চূড়ায় থাকলেও কোন শিক্ষক অভাবে পরলেও বলবে না আমার জন্য কিছু করো। শিক্ষকরা ছিল সমাজের প্রকৃত আয়না, প্রকৃত মানুষ। কিন্তু সেই প্রকৃত মানুষরা সমাজ থেকে দিন দিন কমে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে অনেক শিক্ষকই পূর্বের মতো পিতৃত্বসুলভ আচরণ করে না।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর ) বিকালে আলী আহাম্মদ চুনকানগর পাঠাগার ও মিলনায়তননে আইপিডিসি’র উদ্যোগে ও প্রথম আলো “প্রিয় শিক্ষক সম্মাননা” অনুষ্ঠানে প্রিয় শিক্ষকদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, ভাল মানুষ ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সার্থক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের জীবনে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমি হাওর অঞ্চলের মানুষ, প্রতিদিন মাইলের পর মাইল পায়ে হেটে প্রাইমারী স্কুলে যেতাম। প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকরা পিতৃত্বসুলভ ও আন্তরিকতার সহিত আমাদেরকে পাঠ দান করাইতেন।

শিক্ষকরা আমাদের বেত দিয়ে ও ডাস্টার দিয়ে লেখাপড়ার জন্য পিটিয়েছেন তখন আমাদের বাবা-মা কোন কিছু মনে করতেন না। তারা মনে করতেন শিক্ষক যা করছেন তা আমার ছেলের ভালোর জন্য করেছেন এবং মধুর সম্পর্ক মনে করেছেন। আমি সকল শিক্ষককে বলব না কিছু শিক্ষককে বলব যারা কোন টাকার বিনিময়ে পড়াতেন না, গরীব ছাত্রদের বিনা পয়সায় পড়াতেন।

বর্তমান সমাজের দিকে লক্ষ করলে দেখবেন যে, ছাত্ররা শিক্ষকদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আজ-কাল শিক্ষকরা ছাত্রদের গায়ে হাত তুললে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন হচ্ছে। আসলে আমরা আমাদের জায়গা থেকে সরে যাচ্ছি। ছাত্র-শিক্ষদের সেই মধুর সম্পর্ক আর নাই।

কিছু দিন আগে হাই স্কুলের শিক্ষক বিএসসি সাইফুল স্যার তার স্কুলের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সোনারগাঁ যাদুঘরে এসে ঘুরে গেছেন। এই গল্প সে সারা থানা এলাকায় বলে বেড়িয়েছেন। কলেজ জীবনের গাঙ্গুলী স্যার এখনো চিরকুট লিখে পাঠান “বাবা হারুন, এই লোকটার মেয়ের বিয়ে কিছু করতে পারলে করো” স্যারের এই চিরকুট পেয়ে আমি আমার সাধ্যমত সাহায্য করেছি। তাই প্রিয় শিক্ষকদের কোন দিনও ভুলবার নয়।

আইপিডিসি ও প্রথম আলোর উদ্যোগে “প্রিয় শিক্ষক সম্মাননা” অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য এবং কিছু বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আইপিডিসি ও প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানাই।

Social Share
112Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *