শীতলক্ষ্যা নদীতে র‌্যাবের অভিযানে ৮ চাঁদাবাজ গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার (আলোকিত শীতলক্ষ্যা.কম) : নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে র‌্যাবের অভিযানে ৮ চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির নগদ ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত ২টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ করা হয়।

সোমবার (৫ আগষ্ট) বিকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগরে অবস্থিত র‌্যাব-১১’র সদর দপ্তর থেকে অপারেশন অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী, পিপিএম স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, মেহেদী হাসান (২৫), আলমগীর হোসেন (৩১), আনোয়ার হোসেন (২৪), মোমিন (৪০), আকতার হোসেন (২০), কাওসার হোসেন (২৯), রানা মিয়া (২৩) ও জহিরুল ইসলাম (১৯)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, রবিবার (৪ আগষ্ট) রাতে র‌্যাব-১১’র একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার তারাব এলাকায় সুলতানা কামাল ব্রীজের নীচে শীতলক্ষ্যা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে নৌপথে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির নগদ ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা, চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত ২টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী ও নৌ-শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উক্ত চাঁদাবাজ চক্র শীতলক্ষ্যা নদীতে চলাচলরত প্রত্যেক নৌযান হতে শুল্ক আদায়ের নামে জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০০/- টাকা থেকে ৩৫০০/- টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে আসছে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ডেমরা এলাকার কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান পলিন বিআইউবি¬উটিএ থেকে তারাবো ব্রীজ হতে কাঞ্চন ব্রীজ পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় তীরে মালামাল লোড-আনলোডের শুল্ক আদায়ের ইজারা নিয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী বিআইডবি¬উটিএ কর্তৃক নির্মিত ঘাট বা প্ল¬াটুন ব্যবহার করে কোন মালামাল লোড-আনলোডের জন্য ইজারাদার নির্ধারিত হারে শুল্ক আদায় করার কথা এবং নদীতে চলাচলরত নৌযান থেকে শুল্ক বা চাঁদা আদায় সম্পূর্ন বেআইনী। কিন্তু একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র ইজারার নামে নদীতে চলাচলরত প্রত্যেক নৌযান থেকে দীর্ঘদিন ধরে জোর পূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে। শীতলক্ষ্যা নদীতে চলাচলরত অধিকাংশ নৌযানের গন্তব্য থাকে নরসিংদী, গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলায়। ঐ নৌযান গুলো ইজাদারের আওতাধীন এলাকা অর্থাৎ তারাবো ব্রীজ থেকে কাঞ্চন ব্রীজ এলাকার মাঝামাঝি কোথাও থামে না। তারপরও উক্ত চাঁদাবাজ চক্র তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে নদীতে চলাচলরত অবস্থায় চাঁদা আদায় করে। এমনকি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নৌযান শ্রমিকদের মারধর করে থাকে উক্ত চাঁদাবাজ চক্র। নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ ব্যাপারে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও র‌্যাব নিশ্চিত করেছে।

Social Share
17Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *